কালার চেঞ্জিং ফেব্রিক

ইচ্ছেমত কাপড়ের রঙ বদলানো সম্ভব? আমরা তো সবসময়ই পছন্দসই বিভিন্ন রঙের পোশাক পড়ে থাকি। কিন্তু কেমন হয় যদি একই পোশাকের ইচ্ছেমত রঙ বদল করে পড়া যায়? অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেন এটা আবার কিভাবে সম্ভব। হ্যা বিস্ময়কর হলেও সত্যি, এইতো সম্প্রতি University of Central Florida (UCF) এর The College of Optics & Photonics সর্বপ্রথম মানুষ নিয়ন্ত্রণকারী এই কালার চেঞ্জিং ফেব্রিক/ রঙ পরিবর্তনশীল কাপড় উদ্ভাবন করে। অভাবনীয় এই ফেব্রিক এর তৈরি পোশাক পরিধান করে পরিধানকারী তার স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইচ্ছেমত পোশাকটির রঙ বা প্যাটার্ন বদল করতে পারে। উদ্ভাবনীয় এই ফেব্রিক যতটা না বৈচিত্র্যময় ও ফ্যাশনেবল ততটা প্রযুক্তিগত সংমিশ্রণ।
ক্রোমোরফাস টেকনোলজি বাজারের অন্য সব রং পরিবর্তনশীল ফেব্রিক থেকে আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের মতে ক্রোমোরফাস প্রযুক্তিটি একটি উদ্ভাবনী ক্ষমতা তৈরি করে: যা ব্যবহারকারী-নিয়ন্ত্রিত, বহুমাত্রিক রঙ, বড় ওভেন ফেব্রিক এবং সেলাই করা টেক্সটাইল প্রোডাক্ট এ প্যাটার্ন পরিবর্তন করতে পারে। আর ফেব্রিকটির সবচেয়ে অসাধারণ গুন হল এর মধ্যে এর রঙ পরিবর্তন করতে যে অভাবনীয় প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হয়েছে। ফেব্রিকটি বুনতে ব্যবহৃত সুতায় খুব পাতলা, ধাতব মাইক্রো-অয়ার জড়ানো হয়। এই মাইক্রো-অয়ার সুতার তাপমাত্রা বাড়িয়ে একটি বৈদ্যুতিক প্রবাহ প্রবাহের অনুমতি দেয়। একবার তাপমাত্রা বেড়ে গেলে ‌সুতায় থাকা পিগমেন্ট আচরণ দেখাতে শুরু করে এবং ফেব্রিক এর রং পরিবর্তন হয়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, পোশাকটি পড়ে থাকা ব্যক্তি চাইলে স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইচ্ছেমত রঙ বদলানোর পুরো প্রক্রিয়াটি ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

কালার চেঞ্জিং ফেব্রিক

টেক্সটাইল এর এই বৈপ্লবিক আবিষ্কারে ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার Professor of Optics and Photonics, Dr. Ayman Abouraddy বলেন যে যদিও পোশাক সহস্রাব্দের জন্য মানুষের অভিজ্ঞতার প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় টেক্সটাইল ফাইবার এবং কাপড় বোনা পর্যন্ত এর কাঠামোগত দিকটি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ইলেকট্রনিক্স জগত ও এর বিস্তার ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে, আমরা আমাদের স্মার্টফোন থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন ফিচার আশা করে থাকি তাহলে টেক্সটাইল কেন পিছিয়ে থাকবে? ২০১৬ সালের ও আগে থেকে এই প্রশ্নগুলোর আমরা প্রতিনিয়ত মুখোমুখি হয়েছিলাম। এবং আমরা অতি আগ্রহের সাথে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই টেক্সটাইল শিল্পের সর্বপ্রথম কোনো রঙ পরিবর্তনশীল ফেব্রিক। এবং আমরা বিশ্বাস করি এটি ফ্যাশন এবং টেক্সটাইল এর জন্য এক যুগান্তকারী উদ্ভাবন হতে চলেছে।
এটি ফ্যাশন ও টেক্সটাইল বাজারে এক বিরাট পরিবর্তন আনতে চলেছে। এবং বর্তমানে, এই বিশেষ প্রযুক্তিটি মেলবোর্ন ও ফ্লোরিডায় ব্যাপক উৎপাদনের জন্য অপটিক্স এবং ফোটোনিকস কলেজ এবং তাদের সহযোগীদের সাথে দলবদ্ধ করে তৈরি করা হচ্ছে।‌
তিনি আরও বলেন, আমরা বিশ্বাস করি শীঘ্রই আমরা ক্রোমরফাস ফ্যাব্রিক কেবল পোশাক এবং আনুষাঙ্গিকগুলিতেই নয়, আসবাব এবং বাড়ির সজ্জাতেও প্রয়োগ করা দেখব। বর্তমানে, এই বিশেষ প্রযুক্তিটি মেলবোর্ন ও ফ্লোরিডায় ব্যাপক উৎপাদনের জন্য অপটিক্স এবং ফোটোনিকস কলেজ এবং তাদের সহযোগীদের সাথে দলবদ্ধ করে তৈরি করা হচ্ছে।‌ ক্রোমরফাস ফ্যাব্রিক পুরো মার্কিন জুড়ে পরবর্তী ট্রেন্ডিং ফ্যাব্রিক হওয়ার দুর্দান্ত সম্ভাবনা রয়েছে।
ক্রোমোরফাস ফ্যাব্রিকটি রিচার্জেবল ব্যাটারি প্যাক দ্বারা চালিত হয় যা পোশাকের ভিতরে লুকানো থাকে। ফ্যাব্রিকের টেক্সচারটি ডেনিমের মতো এবং এটি ধুয়ে ইস্ত্রি ও করা যায়। পোশাক তৈরিতে এর সুতাগুলো খুব পাতলা হওয়া জরুরি। সুতাগুলো খুব বেশি ঘন হলেও তবে তারা ব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগ, স্কার্ফ এবং ব্যাকপ্যাক তৈরি করার মতো উপযুক্ত। ভবিষ্যতে সুতাগুলো আরো পাতলা করা হবে যাতে এগুলো শার্ট বা অন্যান্য পোশাককে আরো আরামদায়ক করে তোলা যায়।

রঙ পরিবর্তনশীল কাপড়

এই ক্রোমোরফাস ফেব্রিক ফ্যাশন সচেতন লোকেদের জন্য দারুন উপায় হতে পারে। এক্ষেত্রে একই পোশাক পরে যেকোন ব্যাক্তি চাইলে বাজারে ও যেতে পারবে আবার তার ইচ্ছেমত রঙ বদলে সে একই পোশাক পরে সে হয়ত কোনো পার্টিতেও যেতে পারবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই ক্রোমোরফাস ফেব্রিক ভবিষ্যতে আমাদের পরিবেশের জন্য ও উপকারী হতে পারে।
যেখানে সবচেয়ে অপচয় ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাবকারী অন্যতম একটি শিল্প হল ফ্যাশন শিল্প। তাই অনেক সময় ধরেই কম পানি অপচয় করে পোশাক তৈরির বিকল্প পথের অনুসন্ধান করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় এই রঙ পরিবর্তনকারী কাপড়ের আবিষ্কার। আধুনিক এই ট্রেন্ডময় ফ্যাশন সময়ে মানুষ খুব বেশি ফ্যাশন সচেতন। যার দরুন সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে মানুষ প্রচুর পোশাক নষ্ট করে। আর যত বেশি পোশাক ব্যবহার ততবেশি পানির অপচয় তথা পরিবেশ এর ক্ষতিসাধন। তাই এই কালার চেঞ্জিং ফেব্রিক যতটা মানুষের ফ্যাশন এ নতুন মাত্রা যোগ করবে ঠিক উল্টো আমাদের অপচয়ের হার ও কিছুটা হ্রাস করবে।
তথ্যসূত্র: Innovation in textiles, PYMNTS, STYLUS, Wikipedia.
Author: সজিব ভৌমিক
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড রিসার্চ (নিটার)
 টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট

Related Posts

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on pinterest
Share on reddit

Sponsored Posts