Subscribe Now

Subscribe my Newsletter for new blog posts, tips & new photos. Let's stay updated!

* You will receive the latest news and updates on your favorite celebrities!

Trending News

Blog Post

খেজুরের উপজাত থেকে টেক্সটাইল ফাইবার

খেজুরের উপজাত থেকে টেক্সটাইল ফাইবার আর তা থেকে মানসম্মত সুতা তৈরী, কেউ কখনও কল্পনা করেছে কি? হয়ত না আবার হয়ত কেউ করেছিল, সেই ভাবনা থেকেই মিশরের একদল গবেষক খেজুরের উপজাত থেকে ভালো মানের ফাইবার উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। চলুন জেনে নেই খেজুর থেকে ফাইবার তৈরীর গল্প।

খেজুরের উপজাত থেকে টেক্সটাইল ফাইবার

Properties & Uses

  •  বিশ্বে প্রথমবারের মতো কনসোর্টিয়ামের মিশরীয় গবেষকরা খেজুরের উপজাত [যেমন: ফ্রন্ড, গাছের ডাল, ফলের শাখা-প্রশাখা, পাতা ইত্যাদিকে পামফিল(PalmFil) বলা হয়] থেকে উচ্চ কর্মক্ষমতা সম্পন্ন টেক্সটাইল ফাইবার তৈরি করেছেন। এই গবেষণার লক্ষ্য ছিল একটি সম্মিলিত ক্ষারীয়-যান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করে খেজুর গাছের মধ্যমাটি থেকে উচ্চ-কর্মক্ষমতাসম্পন্ন ফাইবার/তন্তু বের করা এবং ফিজিকোকেমিক্যাল, মরফোলজিকাল এবং মেকানিকাল বৈশিষ্ট্যগুলো শনাক্ত ও তা নিয়ে অধ্যয়ন করা।

 

  • এই ফাইবারটি, খেজুরের উপজাত থেকে উৎপাদন করা হয় এর ফলে বন-উজাড় বা খাদ্য সংকট এই ধরনের কোনো সমস্যা সৃষ্টি করবে না। ফাইবারটি শতভাগ বায়োডিগ্রেডেবল, কম্পোস্টেবল এবং কাঠামোগত ভাবে স্টিলের চেয়ে পাঁচগুণ বেশি ও ফ্লাক্স, শণ, সিসালের মত সুনির্দিষ্ট টেনজাইল শক্তিসম্পন্ন। তাপ নিরোধক বৈশিষ্ট্য কার্বন ফাইবারের চেয়েও বেশি। এটিকে সহজেই অন্যান্য দীর্ঘ ফাইবার যেমন: শন, সিসাল ও অ্যাবাকা এর সাথে মিশ্রিত করে, এছাড়াও হেম্প বা পাট এর সাথে মিশ্রিত করে সুতা তৈরী করা সম্ভব।

 

  • খেজুর গাছ থেকে প্রাপ্ত এই ফাইবারসমূহ শুধু টেকসই নয়, এটি উৎপাদন ক্ষেত্রেও অর্থনৈতিক এবং টেক্সটাইল ও যৌগিক প্রক্রিয়াকরণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে এই ফাইবারগুলো ভবিষ্যতের লাইটওয়েট গাড়ি, ক্রীড়া সামগ্রী, নির্মাণে প্লাস্টার শক্তিবৃদ্ধি, প্যাকেজিংয়ের জন্য বস্তা, দড়ি, সুতা এবং অন্যান্য পন্য তৈরীর জন্য প্রয়োজনীয় বৈশিষ্ট্য সরবরাহ করে থাকে।

খেজুরের উপজাত থেকে টেক্সটাইল ফাইবার

Future of the Fiber

  • খেজুর ফাইবার উৎপাদন উপযুক্ত কারন, মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকাতে ১৪০ মিলিয়নেরও বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। বর্তমানে মিশর সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে পরিচিত, এছাড়াও আছে ইরান, সৌদিআরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সুদান ইত্যাদি দেশসমূহ। প্রতি বছর কৃষিকাজের জন্য খেজুর গাছের ছাঁটাইয়ে ৪৮.৮ মিলিয়ন টনেরও বেশি বর্জ্য তৈরী হয়। তাই খেজুর ফাইবার উৎপাদন বর্তমানে একটি বড় সাফল্য।

 

  •  ফাইবার অনেকটা লিগনোসেলুলোজ ফাইবারের মতোই। এর প্রধান উপাদান গুলো হচ্ছে হলোসেলুলোজ (৬০-৭৫%), লিগনিন (১৫-২০%), অ্যাশ (১.৭৫-১০%) বাকি গুলো অন্যান্য অপদ্রব্য। গড় ওজনের এই শতকরা পরিমান গুলো ফাইবারের উৎস হিসেবে পরিবর্তিত হয়। পামফিল কনসোর্টিয়াম এর গবেষকরা খেজুরের উপজাতগুলো থেকে প্রথমে দীর্ঘ টেক্সটাইল ফাইবার বের করে, এরপর এটিকে ফাইবার টো, চপড ফাইবার, সুতা/রোভিং, নন-ওভেন ম্যাট, ওভেন ফ্যাব্রিক এবং একমুখী টেপে রূপান্তরিত করে।

 

  • পামফিল কনসোর্টিয়ামের অংশীদার, মিসেস লোবনা এলসিফাই বলেছেন; তারা এক্সট্রাকশন প্রক্রিয়াটি বাড়ানোর জন্য বিস্তর গবেষণা করেছে এবং নতুন এই ফাইবারের বিস্তৃত শ্রেণিবিন্যাস করতে সক্ষম হয়েছে”। তারা খেজুরের ফাইবারের বিভিন্ন ফিজিক্যাল; কেমিক্যাল ও মেকানিক্যাল পরীক্ষা (তাপ স্থিতিশীলতা, পৃষ্ঠের বৈশিষ্ট্য, টেনজাইল শক্তি, ঘনত্ব, কস্টিক সোডা ট্রিটমেন্ট ইত্যাদি) করেছে এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক ফাইবারের (জুট, হেম্প, কয়ার ইত্যাদি) সাথে তুলনা করেছে। তারা পর্যবেক্ষন করেছে যে কস্টিক সোডা ট্রিটমেন্টের পর ফাইবারের তাপীয় অবক্ষয় ও টেনজাইল শক্তি কিছুটা বৃদ্ধি পায়।

 

  • ▪️খেজুর ফাইবারের গবেষণার ফলাফলগুলো সায়েন্টিফিক কমিউনিটি দ্বারা খুব ভালভাবে গৃহীত হয়েছিল; এক্ষেত্রে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক জার্নাল যেমনঃ শিল্প ফসল এবং পণ্য (Elsevier) এবং সেলুলোজ (Springer) এর গবেষণা এবং পর্যালোচনা এই গবেষণার ফলাফলে আলাদা বৈশিষ্ট্যযুক্ত করেছে। এছাড়াও ফাইবারটি মিশরের শিল্প সম্প্রদায়ের দ্বারা ভালভাবে স্বীকৃত এবং এটি মিশরের শিল্প কেন্দ্রের স্পিনিং লাইনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

Conclusion

দিন দিন টেকসই ও নবায়নযোগ্য টেক্সটাইল উপকরনগুলোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রাকৃতিক ফাইবারগুলোর প্রতি আগ্রহ বাড়াচ্ছে। প্রাকৃতিক ফাইবারগুলো কেবল পরিবেশ-বান্ধব নয়, হালকা ওজনের কারণে তাদের উচ্চ সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বর্তমানে খেজুর গাছ প্রাকৃতিক ফাইবারগুলোর অন্যতম উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। খেজুর গাছের বিভিন্ন অংশ থেকে আঁশ বের করা যেতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে প্রচুর খেজুর চাষ হওয়ায় বার্ষিক ছাঁটাইয়ের ফলে প্রচুর পরিমাণে উপজাতগুলো পাওয়া যায়। গবেষকরা বিভিন্ন পরীক্ষা ও গবেষনা চালাচ্ছে এই ফাইবার নিয়ে, ফলে খেজুর ফাইবারগুলোর সম্পর্কে আরও ভাল ধারনা তৈরি হবে গবেষকদের ও নতুন নতুন টেক্সটাইল পন্য তৈরিতে এই ফাইবারগুলো কিভাবে ব্যবহার করবে তা নির্ধারণ করতে সহায়তা করবে।

Author: Md.Imran Hossain

Shahid Abdur Rab Serniabat Textile Engineering College, Barishal

Department : Wet Process Engineering

Batch: 8th (Session: 2017-18)

You May Also Read:

WordPress Theme built by Shufflehound.