Ad
Ad
Ad
Category

Textile Bangla

Category

স্বভাবতই মনে প্রশ্ন আসে একজন নাপিত কিভাবে স্পিনিং মেশিনের আবিষ্কারক হয়? স্যার রিচার্ড আর্করাইট

প্রাথমিক জীবন 

১৭৩২ সালে জন্ম নেয়া রিচার্ড জীবনে লেখাপড়ার সুযোগ পান নি;  ১০ বছর বয়সে নাপিত এর কাজ শিখা শুরু করে এবং নাপিত হিসেবেই ১০ বছর কর্মজীবন অব্যাহত রাখে। তার মজুরি ছিল মাত্র ১ পেনি  কিন্তু মৃত্যুর সময় তার সম্পদের পরিমান ছিল ১০ লক্ষ পাউন্ড।

স্পিনিং মেশিনের আবিষ্কারের ধারণা

১৯৬৫ সালের এক ঝড়ো রাতের গল্প দিয়ে শুরু। যুবক আর্করাইট ঝড়ের হাত থেকে বাচার আশ্রয় খুজতেছিলেন; হঠাৎ তিনি দেখেন একটা বাড়িতে মোমের আলো জ্বলছিল আর বাইরে খট খট শব্দ হচ্ছিল। বাড়িটি ছিল এক তাঁতির নাম জেমস্ হারগ্রেভস। সে নিজে অদ্ভুত ধরনের একটি সুতোকাটার কলের সাহায্যে সুতা তৈরি করছিল ;  সে রাতে কাজ করত যাতে তার বানানো মেশিন এর কথা প্রচার না হয়ে যায়। রিচার্ড যখন নিজের নাপিত পরিচয় দিল তখন জেমস্ তাকে আশ্রয় দিল;  এবং তার বানানো মেশিন খুটিয়ে খুটিয়ে দেখালো। সেখান থেকে ফিরে এসে রিচার্ড আর স্থির থাকতে পারলেন না;  তিনি ভাবতে লাগলেন কিভাবে এই যন্ত্রের উন্নতি করা যায়।

স্পিনিং মেশিনের আবিষ্কার

সালটি ছিল ১৯৬৯ রিচার্ড ৪ বছর আগে দেখে আসা সেই তাঁতির যন্ত্রের চেয়ে উন্নত যন্ত্র আবিষ্কার করেন। তাঁতির তৈরি যন্ত্র ছিল স্পিনিং মেশিনের এক অসম্পূর্ণ প্রচেষ্টা মাত্র; যেটি দিয়ে একসাথে ৭ টি সুতা কাটা যেত। এবং সুতোর গুনগত মানও ভাল ছিল না। স্যার রিচার্ড এর আবিষ্কৃত তাতঁ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তুলো ধুনো থেকে শুরু করে সুতো তৈরি করতে পারত;  এর সাহায্যে যত খুশি সুতা কাটা যায়। এছাড়া সুতোর মানও নিয়ন্ত্রণ করা যেত।

স্যার রিচার্ড আর্করাইট
ত্যাগ ও পরিশ্রম

আর্কারাইডের আবিষ্কারটি কিন্তু সহসা হয় নি;  এ জন্য তাকে অক্লান্ত পরিশ্রম ও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তার এই আবিষ্কারের নেশার কারণে চুল কাটার ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছিল;  সংসারে অভাব অনটন নিয়ে স্ত্রীর সাথে সবসময় ঝগড়া লেগেই থাকতো। রিচার্ডের মাথা থেকে আবিষ্কারের ভূত তাড়ানোর জন্য তার স্ত্রী স্পিনিং মেশিনটি ভাঙে ফেলেছিলেন;  রিচার্ড এতে মর্মাহত হলেও ভেঙে পড়েন নি। অসীম ধৈর্য নিয়ে পুনরায় তার মেশিনটি বানিয়ে ফেলেন।

রিচার্ড থেকে স্যার রিচার্ড আর্করাইট

তার বানানো যন্ত্রটি খুব শীঘ্রই চতুর্দিকে সাড়া ফেলে দেয়। তাঁতের কুটির শিল্প শিল্পকারখানায় রূপান্তরিত হতে লাগলো;  তিনিই মূলত শিল্পবিপ্লবের নায়ক। তার অবদানের জন্যই শুরু হয় নতুন অর্থনৈতিক যুগের;  তার কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৭৮৬ সালে বৃটিশ সাম্রাজ্যের তৃতীয় জর্জ তাকে নাইট উপাধিতে ভূষিত করেন;  আর নাপিত রিচার্ড হয়ে গেলেন স্যার রিচার্ড আর্কারাইড।

চোখ ধাধানো কিছু তথ্য

  • শোনা যায় রিচার্ড ৫০ বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন।
  • মহান বিজ্ঞানী ও শিল্পপতি হবার পরেও দৈনিক আঠারো থেকে বিশ ঘন্টা পরিশ্রম করতেন।

Source: The 101 Scientist

You may also read

Join our FB Group

টেক্সটাইল সেক্টরের 3R| বর্তমান যুগ টেক্সটাইলের যুগ। টেক্সটাইল বাংলাদেশের মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করছে। বর্তমানে বাংলাদেশের  টেক্সটাইল সেক্টর পুরো বিশ্বের …

টেক্সটাইল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; বাংলাদেশে টেক্সটাইল সেক্টরটি অনেক বেশি প্রসারিত।এখানে ৫০০০ এর কাছাকাছি ফ্যাক্টরী রয়েছে। প্রতিনিয়ত এই ফ্যাক্টরীগুলোতে বিপুল পরিমাণে…

লোটাস ফাইবার এক ধরনের প্রাকৃতিক ফাইবার যা লোটাসের বৃন্ত থেকে সংগ্রহ করা হয়।লোটাস ফাইবার একটি ট্রিপিক্যাল ফাইবার যার কেলাস…