Subscribe Now

Subscribe my Newsletter for new blog posts, tips & new photos. Let's stay updated!

* You will receive the latest news and updates on your favorite celebrities!

Trending News

Blog Post

বাংলার ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি

বাংলার ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি

Introduction

আমাদের বাংলার এক অপরূপ ঐতিহ্য জামদানি।ঢাকাই জামদানির কদর সেই আদিকাল থেকেই।জামদানির নামকরণ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মতবাদ রয়েছে; একটি মত অনুসারে ‘জামদানি’ শব্দটি ফার্সি ভাষা থেকে এসেছে। ফার্সি জামা অর্থ কাপড় এবং দানা অর্থ বুটি; সে অর্থে জামদানি অর্থ বুটিদার কাপড়। একারণে মনে করা হয় মুসলমানেরাই ভারত উপমহাদেশে জামদানির প্রচলন ও বিস্তার করেন।

আরেকটি মতে; ফারসিতে জাম অর্থ এক ধরনের উৎকৃষ্ট মদ এবং দানি অর্থ পেয়ালা; জাম পরিবেশনকারী ইরানী সাকীর পরনের মসলিন থেকে জামদানি নামের উৎপত্তি ঘটেছে। জামদানি হল; কার্পাস তুলা দিয়ে প্রস্তুত একধরনের পরিধেয় বস্ত্র যার বয়ন পদ্ধতি অনন্য।

বাংলার ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি

বুনন কৌশল

জামদানী বুননকালে তৃতীয় একটি সুতা দিয়ে নকশা ফুটিয়ে তোলা হয়; মসলিন বয়নে যেমন ন্যূনপক্ষে ৩০০ কাউন্টের সুতা ব্যবহার করা হয়; জামদানি বয়নে সাধারণত ৭০-৮০ কাউন্টের সূতা ব্যবহৃত হয়। হালে জামদানী নানা স্থানে তৈরী করা হয় বটে’; কিন্তু ঢাকাকেই জামদানির আদি জন্মস্থান বলে গণ্য করা হয়। জামদানী বয়নের অতুলনীয় পদ্ধতি ইউনেস্কো কর্তৃক একটি অনন্যসাধারণ নির্বস্তুক সংস্কৃতিক ঐতিহ্য (ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেইজ) হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।

প্রাচীনকালের মিহি মসলিন কাপড়ের উত্তরাধিকারী হিসেবে জামদানি শাড়ি বাঙ্গালী নারীদের অতি পরিচিত। মসলিনের উপর নকশা করে জামদানি কাপড় তৈরি করা হয়। জামদানি বলতে সাধারণত‍; শাড়িকেই বোঝান হয়। তবে জামদানি দিয়ে নকশী ওড়না; কুর্তা, পাগড়ি, রুমাল, পর্দা প্রভৃতিও তৈরি করা হত। ১৭০০ শতাব্দীতে জামদানি দিয়ে নকশাওয়ালা শেরওয়ানির প্রচলন ছিল। এছাড়া; মুঘল ও নেপালের আঞ্চলিক পোশাক রাঙ্গার জন্যও জামদানি কাপড় ব্যবহৃত হত।

অলঙ্করণ কৌশল

জামদানির প্রকারভেদ জামদানি নকশার প্রধান বৈশিষ্ট্য এর জ্যামিতিক অলঙ্করণ। জামদানি নকশা বর্তমানের মত কাগজে এঁকে নেওয়া হতো না; দক্ষ কারিগর স্মৃতি থেকে কাপড়ে নকশা তুলতেন। নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন জামদানি বিভিন্ন নামে পরিচিত; যেমন পান্না হাজার, দুবলি জাল, বুটিদার, তেরছা, জালার; ডুরিয়া, চারকোণা, ময়ূর প্যাঁচ, কলমিলতা, পুঁইলতা, কচুপাতা, কাটিহার; কলকা পাড়, আঙুরলতা, সন্দেশ পাড়, প্রজাপতি পাড়; দুর্বা পাড়, শাপলাফুল, বাঘনলি, জুঁইবুটি, শাল পাড়; চন্দ্র পাড়, চন্দ্রহার, হংস, ঝুমকা, কাউয়ার ঠ্যাঙা পাড়; চালতা পাড়, ইঞ্চি পাড় ও বিলাই আড়াকুল নকশা; কচুপাতা পাড়, বাড়গাট পাড়, করলাপাড়; গিলা পাড়, কলসফুল, মুরালি জাল, কচি পাড়; মিহিন পাড়, কাঁকড়া পাড়, শামুকবুটি, প্রজাপতি বুটি; বেলপাতা পাড়, জবাফুল, বাদুড় পাখি পাড় ইত্যাদি। বর্তমানে শাড়ির জমিনে গোলাপফুল; জুঁইফুল, পদ্মফুল, কলারফানা, আদারফানা; সাবুদানা ইত্যাদি নকশা করা হয়।

বাংলার ঐতিহ্য জামদানি শাড়ি ও সাম্প্রতিক সময়

সাম্প্রতিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী জামদানি নকশাকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়াস চলছে। ছোট ছোট বিভিন্ন ফুলের বুটি তোলা জামদানি বুটিদার নামে পরিচিত। জামদানি বস্ত্রে ছোট ছোট ফুলগুলি যদি তেরছাভাবে সারিবদ্ধ থাকে তাকে তেরছা জামদানি বলে। এ নকশা শুধু যে ফুল দিয়েই হবে তা নয়, ময়ূর বা লতাপাতা দিয়েও হতে পারে। ফুল, লতার বুটি জাল বুননের মতো সমস্ত জমিনে থাকলে তাকে জালার নকশা বলা হয়। সারা জমিনে সারিবদ্ধ ফুলকাটা জামদানি ফুলওয়ার নামে পরিচিত। ডুরিয়া জামদানি ডোরাকাটা নকশায় সমৃদ্ধ থাকে।

বেলওয়ারি নামে চাকচিক্যপূর্ণ সোনারুপার জরিতে জড়ানো জামদানি মুগল আমলে তৈরি হতো। এ ধরনের জামদানি সাধারণত হেরেমের মহিলাদের জন্য বিশেষভাবে বোনা হতো।

বহু বাধা অতিক্রম করে জামদানি একবিংশ শতাব্দীতে এসেও তাঁর ঐতিহ্য রক্ষা করে টিকে আছে। বর্তমানে এর প্রধান সমস্যা, তাঁতশিল্পীরা সঠিক পারিশ্রমিক পান না। একটি ভাল জামদানি শাড়ি তৈরি করতে তাদের এক থেকে দুই মাস সময় লেগে যায়। সে তুলনায় তারা মজুরি পান খুব কম। তবে আশার কথা সরকার এই শিল্পের প্রতি এখন বিশেস নজর দিয়েছে।

সর্বোপরি জামদানি আমাদের সংস্কৃতির এর আবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের উচিত একে রক্ষা করা।

তথ্যসূত্রঃ বাংলাপডিয়া

Author:

Niloy kundu Bijoy

(BUFT)

You may also read

আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ লাইক করুন। এবং জানতে থাকুন নতুন ও আশ্চর্যজনক তথ্যসমূহ।

WordPress Theme built by Shufflehound.